

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বাজারগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। বিভিন্ন বিপণি বিতান ও ফুটপাতজুড়ে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকেই দোকানগুলোতে বাড়ছে নারী ক্রেতার উপস্থিতি। এদিকে বাজার এলাকায় টহল জোরদার করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ।
বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নারী ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি পোশাক, কসমেটিকস ও গৃহসজ্জার সামগ্রীতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় বিক্রি ভালো হচ্ছে এবং নারী ক্রেতাদের কারণে বাজার আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
ফুটপাতের দোকানদার জমির মিয়া বলেন, ফুটপাত হচ্ছে গরিবের একমাত্র অবলম্বন। আমার দোকানে সব কাপড়ের দাম বড় দোকানগুলোর তুলনায় অনেক কম। তবে যারা কেনেন তাদের বেশিরভাগই নারী। তারা সাধারণত পরিবার ও সন্তানদের জন্য আগে কেনাকাটা করেন, তাই এখন থেকেই তাদের ভিড় বেশি দেখা যাচ্ছে।
কনিকা নামে একজন ক্রেতা বলেন, বাচ্চাদের জন্য দুই সেট জামা নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শপিং মলে গিয়ে দেখি এক সেটের দামই অনেক বেশি। তাই ফুটপাথই থেকে কিনে নিলাম। ক্রেতা সাথী বলেন, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বাবা-মায়ের জন্য নতুন কাপড় কিনতে এসেছি। দাম কিছুটা বেশি হলেও বাবা-মার জন্য ভালো পোশাকটাই কিনব।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ রমজানের পর এসব দোকানগুলোতে ঈদের বেচাবিক্রি শুরু হয়। অনেকে দেখতেও আসছেন। দামাদামি করে তারা ফিরে যান। তবে এক দামের দোকানগুলোতে বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। তবে বড় বা অধিক পরিচিত দোকানগুলোতে বেচাকেনা আরো বেশি। এবার বাচ্চাদের পোশাক, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে তানাবানা কাতান শাড়ি, পাকিস্তানি থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। তাছাড়া এ অঞ্চলের পাঞ্জাবির চাহিদাও প্রচুর। ঈদে নিজেদের পরিবার বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও আত্মীয়দের উপহার হিসেবে পাঞ্জাবি দেয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন দলের নেতারা তাদের কর্মীদের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে ভিড় করছেন ফ্যামিলি শপিং, চয়েস শপিং, সায়মা ফ্যাশনের দোকানে।
রিয়াদ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজাদ নবী বলেন, আমার দোকানে বেশিরভাগই নারীরা পোশাক কিনতে আসেন, আমার দোকানে সবসময় ভাল বেচাকেনা হয়। তবে দোকানে থ্রি-পিস এবং শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। আমি কোনো কাস্টমারকে ফেরাই না, অল্প ব্যবসা হলে বিক্রি করে দেই।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতি বছরই পোশাকের দাম কিছুটা বাড়ে। সে হিসাবে গত বছরের চেয়ে পাইকারিতে আমরা কিছুটা বাড়তি দামে কিনে এনেছি। সীমিত লাভ রেখে আমরা পোশাক বিক্রি করি। তাই ক্রেতা পর্যায়ে দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
এখন মানুষের আয় কম তাই বিক্রি কম হচ্ছে জানিয়ে চয়েস শপিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ওবায়দুল হক বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমার দোকানে বিক্রি কম। আগে ২০ রমজানে দোকানে ভিড় থাকতো এখন তেমনটা নেই। চিন্তায় আছি ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারবো কি না।
কার্বন বেবি শপের আবছার জানান, আমার দোকানে নারী ক্রেতাই বেশি। তবে, আমার দোকানে সবসময় বিক্রি ভাল হয়। বাচ্চাদের কাপড় কয়েক আইটেম শেষ হয়ে গেছে। তাই আমি আজ রাতেই ঢাকা যাবো কাপড় আনতে।
মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তফিকুল ইসলাম তৌফিক জানান, জনগণ যেন নির্ভয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে পারে, সে জন্য মাটিরাঙ্গা পুলিশ বাজার এলাকায় টহল জোরদার করেছে।