

আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আওয়ামী যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদল ও ইউনিয়ন জামায়াত নেতাসহ একই পরিবারের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছৈয়দুল আমিন (৩৫) নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইদুল আমিন (৩০), রুহুল আমিন (৩২) আলী হোসেন (৬৫) চারজনই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চাকঢালা বাজারের উত্তরে চাকঢালা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত রুহুল আমিন জানান, তিনি ওই সময় তার পৈত্রিক জমিতে ধান রোপণের জন্য ট্রাক্টর নিয়ে যাচ্ছিলেন। ট্রাক্টরের সঙ্গে তার ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা শাহজাহানের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের পথরোধ করে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহজাহানের নেতৃত্বে থাকা লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে, তার দুই ভাই এবং পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য গুরুতর আহত হন।
রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক আঘাতই করেনি, বরং তার কাছে থাকা ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আহতদের মধ্যে জামায়াত নেতা ও ছাত্রদল নেতাসহ তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাশরুরুল হক বলেন, “এটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর একাধিক সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আগে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবারের ঘটনায় তা প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততায় এ ধরনের সহিংসতা স্থানীয় জনজীবনকে অশান্ত করছে বলে সাধারণ মানুষের মন্তব্য।